দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিতে শালিস বৈঠকে হাতাহাতির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই মাসের বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন সাত আসামি। এ সময়ে তাদের জামিনের আবেদনও করা সম্ভব হয়নি। মামলার বাদী জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
সম্প্রতি কারা কর্তৃপক্ষ জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তার কাছে আসামিদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগের আবেদন জানিয়েছে। জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি ইতোমধ্যে তাদের জন্য আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার সকালে কারাবন্দিদের স্বজনরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন। পরে আসামিদের জামিন ও মুক্তির দাবিতে জেলা ও দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন।
কারাবন্দী সাত আসামি হলেন- ঈমাম হোসেন বাররু, মো. রমিন, মো. আকিব, মো. কুইক আলী, মো. জিদান, মো. সিফাত আলী ও মো. পরশ। তাদের মধ্যে পাঁচজনের বয়স ১৮ বছরের কম। তারা গত দুই মাস নয় দিন ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছেন।
কারাবন্দিদের স্বজনরা বলেন, মামলার বাদী আইনজীবী হওয়ায় কোনো আইনজীবী তাদের মামলা পরিচালনায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে তারা কারাগারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তারা আইনগত সহায়তা ও দ্রুত জামিনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. একরামুল হোসাইন বলেন, আইনজীবী সমিতিতে হাতাহাতির ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। মেডিকেল প্রতিবেদনও পাওয়া গেছে। ঘটনাটি দণ্ডবিধির ৩২৩ ধারার আওতাভুক্ত অপরাধ। শিগগিরই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
মামলার বাদী ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবু হাসিব দেশ টিভিকে বলেন, যে কোনো আইনজীবী চাইলে এ মামলা পরিচালনা করতে পারেন। বার থেকে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি। কোনো মামলা গ্রহণ বা বর্জন করা আইনজীবীদের ব্যক্তিগত বিষয়। যারা বর্তমানে কারাগারে আছেন, তারা আইনজীবীদের মারধর করেছিলেন। পরে বারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি বাদী হয়ে মামলা করেন। তবে আসামিরা আইনগত সহায়তা পাওয়ার অধিকারী এবং এ ক্ষেত্রে তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে না।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আবু নাসের মো. ওয়াহিদ বলেন, প্রত্যেক অভিযুক্ত ব্যক্তির আত্মপক্ষ সমর্থন এবং আইনজীবীর সহায়তা পাওয়ার সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার রয়েছে। কোনো আসামি নিজে আইনজীবী নিয়োগে অসমর্থ হলে রাষ্ট্র তার জন্য আইনগত সহায়তার ব্যবস্থা করবে। তিনি বলেন, আইনজীবী ছাড়া ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এমনকি গুরুতর অপরাধের আসামিও আইনগত সহায়তা পাওয়ার অধিকার রাখেন।
তিনি আরও বলেন, বিচারকও প্রয়োজনে এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে পারেন। আইনজীবী না থাকলে আদালতের অনুমতি নিয়ে অভিযুক্তরা নিজেরাও বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারেন। আইনের শাসনের মূল ভিত্তিই হলো অভিযুক্তকে আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ দেওয়া।
এমএস/